সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী মো. সবুজ মিয়ার মরদেহ গাইবান্ধায় পৌঁছেছে।
রোববার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি গাইবান্ধার তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ গ্রহণ করেন।রংপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন আলভি জানান, মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়ার পর যথাযথ সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে। সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ নেওয়া হবে পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি ছোট ভগবানপুর গ্রামের বাড়িতে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে বাড়ির পাশের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর খবরে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। প্রিয়জনের নিথর দেহ দেখে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বৃদ্ধ মা ছকিনা বেগম ছেলের মরদেহ দেখে বারবার মূর্ছা যান। স্ত্রী নুপুর আক্তার স্বামীর দেহের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েন।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে নি’হত এই শান্তিরক্ষীর বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। এলাকাবাসী ও স্বজনরা সবুজ মিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনী ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সবুজ মিয়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি ছোট ভগবানপুর গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। শৈশবেই বাবাকে হারান তিনি। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবুজ ছিলেন সবার ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীকে নিয়েই চলছিল তার সংসার। ২০২৩ সালের ৭ মার্চ নাটোর জেলার বাসিন্দা নুপুর আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দেড় বছরের দাম্পত্য জীবনেই থেমে যায় তাদের স্বপ্ন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে মামার সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক ধুপি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সবুজ মিয়া। পরবর্তীতে তিনি লন্ড্রি কর্মচারীর পদে উন্নীত হন।
মন্তব্য করুন